মেজর জিয়া’র ওপর থেকে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, মুক্ত জীবনে ফিরিয়ে আনার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক::

রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত নিরাপত্তা ন্যারেটিভ, সাজানো জঙ্গি অভিযান ও বিচার ব্যবস্থার অপচর্চা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ও বিগত স্বৈরাচারী সরকারের সময়ে শোষণ, নিপীড়ন এবং নির্যাতনের শিকার মৌলভীবাজারের কৃতি সন্তান মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক এর ওপর থেকে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, মুক্ত জীবনে সম্মানের স্বপদে ফিরিয়ে আনার দাবিতে মৌলভীবাজারে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মেজর জিয়াউল হক মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ। 

বৃৃহস্পতিবার দুপুরে মৌলভীবাজার শহরের এম সাইফুর রহমান অডিটোরিয়ামে মেজর জিয়াউল হক মুক্তি পরিষদ এর ব্যানারে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্টিত হয়। এসময় সেখানে মেজর জিয়ার পরিবারের সদস্য ও তার সহকর্মী অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা নানা তথ্য তুলে ধরে আবেগঘন বক্তব্য রাখেন। 

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, মৌলভীবাজারের কৃতি সন্তান মেজর জিয়াউল হক একজন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তা। এবং বিগত রিজিমের নৃশংস চরিত্র হননের শিকার। ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকান্ডের পর একসময় তাঁকে গুম করা হয়। দুইরাত গুম থেকে নিজ বুদ্ধিমত্তায় তিনি পালাতে সক্ষম হন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও চট্রগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে দেয়া বক্তব্যে বিষয়টি তুলে ধরেন। ওই সময় জীবন রক্ষার্থে মেজর জিয়া আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হন। এ অবস্থায় তার নামে ডজন খানেক সাজানো মামলা দায়ের করা হয় এবং ৩টি মামলায় ফাঁসির রায় দেয়া হয়। মেজর জিয়াকে ফাঁসাতে দেয়া হয় জঙ্গি ট্যাগ। এমন কী তাকে প্রতিটি জঙ্গি দলের লিডার বলে প্রচারণা চালানো হয়। কিন্তু বাস্তবে তা অসম্ভব।

সংবাদ সম্মেলনে মেজর জিয়াউল হক এর ফুফু নুরজাহান শুয়ারা সরকারের নিকট আহবান জানিয়ে বলেন, জিয়া মৌলভীবাজারের গর্ব। একজন মেধাবী সেনা কর্মকর্তা। আমি তাঁর উপর সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের আহবান জানাচ্ছি। এ ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা মেজর জিয়াউল হক এর বিরুদ্ধে সকল অন্যায়ের সুরাহার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী,আইনমন্ত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এরহ হন্তক্ষেপ ও সহযোগীতা কামনা করেন।  

মেজর জিয়াউল হক মুক্তি পরিষদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র সাংবাদিক সৈয়দ রুহুল আমিন। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কবি সুফি চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন, আয়নাঘরে গুম থেকে ফিরে আসা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) হাসিনুর রহমান বীর প্রতীক, বিশিষ্ট কুটনৈতিক সাকিল আলী, মেজর (অব) মুজাহিদ মনির, মেজর জিয়াউল হক এর ফুফু ও সাবেক শিক্ষিকা নুরজাহান শুয়ারা, শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সৈয়দ মোহাম্মদ মহসিন, ড. মোহাম্মদ আবু তাহের, সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা ও সমাজসেবক মোস্তাক আহমেদ মম, মেজর (অব) জামাল হায়দার, লে. কর্ণেল অব. মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান ও ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন।