নিজস্ব প্রতিবেদক::

অতি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে মৌলভীবাজার জেলার সবগুলো নদ নদীতে পানি বেড়েছে। উজান থেকে আসা পানির কারণে মনু ও ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এদিকে ধলাই নদীতে ভাঙনে ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। নদী ভাঙনের ফলে  ইসলামপুর, মাধবপুর ও আদমপুর ইউনিয়নের ৭-৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় তলিয়ে গেছে আউশ ফসলের মাঠ। এছাড়াও সদর উপজেলার মনু নদীর তীরের বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে মঙ্গলবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত জেলায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ১৮৬ মিলিমিটার। বৃহস্পতিবার সকালে হালকা বৃষ্টি হলেও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে আরও বৃষ্টি হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলায় ধলাই নদীতে ভাঙনের ফলে ৩টি ইউনিয়নের ৭-৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ১০ হাজার মানুষ। এছাড়া ইসলামপুর ইউনিয়নের ভান্ডারীগাঁও এলাকার দুইটি স্থান ও মাধবপুর ইউনিয়নের নুরজাহান চা বাগানের সামনে দুইটি স্থানে সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এই উপজেলায় পানিবন্দি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১৯০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ধলাই নদীর মোখাবিলের এই অংশ অনেক আগে থেকেই ভাঙ্গা। পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠিক মতো কাজ করলে আজ এতো ক্ষতি হতোনা। বন্যায় মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মানুষের ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে। আউশধান ও বিভিন্ন ফসল তলিয়ে গেছে।

কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর স্থানীয় বাসিন্দা সাকিব মিয়া ও জাকির হোসেন বলেন, রাতে হঠাৎ করে ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙ্গে যায়। প্রায় ১০০ মিটার হবে ভেঙ্গেছে। কয়েকটি ইউনিয়নের অনেক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। মানুষ কষ্টে আছে।

এদিকে মনু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় রাজনগর উপজেলার উজিরপুর ও হরিপাশা এলাকায় বাঁধের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় ঝুকিপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই এলাকায় বালির বস্তা ফেলে নদীভাঙন রোধে কাজ চলছে। এছাড়া কামারচাক ইউনিয়নের তারাপাশা, ও গণেশপুর এলাকায় নদী ভাঙনের সম্ভাবনা রয়েছে।

সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের মাইজপাড়া দাখিল মাদারাসার আশ্রয়কেন্দ্রে ২৬টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী আশ্রয় কেন্দ্র চালুর প্রস্তুতি রয়েছে। এছাড়াও ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জুড়ী উপজেলার পশ্চিমজুড়ী ও জায়ফরনগর ইউনিয়নের হাওর এলাকায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এদিকে জেলা প্রশাসন বন্যাকবলিত মানুষের সহায়তায় রাজনগর উপজেলায় ২১০ বস্তা, জুড়ী উপজেলায় ১৫৭ বস্তা, সদর উপজেলায় ৩১৩ বস্তা, কমলগঞ্জ উপজেলায় ২৩৫ বস্তা শুকনো খাবার ও অন্যান্য সামগ্রী উপবরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে জেলার প্রধান নদীগুলোর মধ্যে মনু ও ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।  মনু নদীর রেলওয়ে এলাকায় বিপৎসীমার ৭২ সেন্টিমিটার, মনু নদীর চাঁদনীঘাট অংশে বিপৎসীমার ৬৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে, ধলাই নদীর ১৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া কুশিয়ারা নদীর ২৫ সেন্টিমিটার ও জুড়ী নদীর পানি বিপদসীমার ২৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ জানান, বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় নদীতে পানি বাড়ছে। মনু ও ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। ধলাই নদীর একটি অংশে ভাঙন দিয়েছে। বিএসএফ এর বাঁধায় মখাবিলের এই অংশটুকু কাজ করানো সম্ভব হয়নি। বাঁধার মুখে যেটুকু কাজ করা গেছে তাই করা হয়েছে। বর্তমানে সবগুলো নদীতে পানি বাড়ছে।

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদুজ্জামান পাবেল জানান, জেলা প্রশাসন বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ, আশ্রয় ব্যবস্থাপনা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, জেলায় সকল পর্যায়ের জনসাধারণের জান ও মাল রক্ষার্থে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীসহ সকল আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে তাদের সহযোগীতা নেওয়া হবে।