আশ্রয়ন প্রকল্পে থেকে দারিদ্রতাকে জয় করল অদম্য মেধাবী রাহেল



নিজস্ব প্রতিবেদক::

ঘরে নেই পড়ালেখা করার জন্য একটি চেয়ার কিংবা টেবিল। সহায় সম্বল বলতে কিছুই নেই। নিজস্ব কোন ভূমি নেই। মাথাগোজার ঠাই বলতে সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পের ছোট্ট ঘর। এখানেই পরিবারের ৫ সদস্যের সাথে থাকেন মো: রাহেল উদ্দিন মারুফ। সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পে থেকে দারিদ্রতাকে জয় করে মেধার স্বাক্ষর রাখলেন তিনি। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে সে।

মো: রাহেল উদ্দিন মারুফের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার সাগরনাল ইউনিয়নের দক্ষিণ সাগরনাল গ্রামে। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ফুলতলা বশির উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে সে। পরিবারের অভাব অনটনের মধ্যে পড়ালেখায় মনযোগী ছিল রাহেল। অদম্য এই মেধাবী শিক্ষার্থীর কাছে দারিদ্রতা হার মেনেছে। এতো কিছুর পর পড়ালেখায় মনযোগী থেকে ভালো ফলাফল করায় পরিবারসহ আত্নীয়-স্বজন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী  সবাই খুশী।

রাহেলে পিতা আলাউদ্দিন পেশায় রিকশাচালক। মা রিনা বেগম একজন গৃহিনী। তিন ভাই-বোনের মধ্যে রাহেল দ্বিতীয়। বড় ভাই অভাবের কারণে পড়ালেখা বাদ দিয়ে বাবার সাথে পরিবারের হাল ধরতে বাসের হেলপার হিসেবে কাজ করছেন। ছোটবোন সাগরনাল আলিম মাদরাসার নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

রাহেলের মা রিনা বেগম ছেলে-মেয়ের পড়ালেখার খরচ যোগাতে টিউশনি করান। শিশুদের পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত শিখান তিনি। এই থেকে যা আয় হয় তা দিয়ে ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখায় খরচে ব্যয় করেন।

রাহেল উদ্দিন মারুফ জানায়, পড়ালেখার ফাঁকে ফাঁকে টিউশনি করায় সে। খরচ যোগাতে প্রায় ৪টি টিউশনি করাতো। তার ইচ্ছে ইন্টারমিডিয়েট শেষ করে মেডিকেলে পড়ার। তবে অভাবের মধ্যে তার এই ইচ্ছে কতটুকু বাস্তবায়ন হবে জানেনা সে।

রাহেলের মা রিনা বেগম বলেন, আমাদের বড় আশা ছেলেকে নিয়ে। কিন্তু আমাদের সেই সামর্থ নেই। কোন রকমে আমাদের সংসার কষ্ট করে চলছে। সামনে আবার ছেলেকে ভর্তি করতে হবে কলেজে। সেই সামর্থও আমাদের নেই। কিভাবে তার ভর্তির জন্য অর্থের ব্যবস্থা করব। কেউ সহযোগিতা করলে আমরা তাকে ভর্তি করতে পারব।

তিনি বলেন, গতকাল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হবার পর থেকে মাথায় নতুন চিন্তা তৈরি হয়েছে ছেলের ভর্তি নিয়ে। আমাদের মতো গরীবের জন্য যদি কোন হৃদয়বান ব্যক্তি এগিয়ে আসেন তাহলে আমাদের স্বপ্ন পূরণ হতে পারে। সেই সাথে বড় হয়ে আমার ছেলে দেশের জন্য কাজ করবে।

ফুলতলা বশির উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: নজরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থী হিসেবে রাহেল অনেক ভালো। তার বাড়িঘর কিছুই নেই। বাড়িতে বসে যে পড়ালেখা করবে এরকম চেয়ার টেবিল কিছুই ছিল না। আমরা স্কুল থেকে সহযোগিতা করে তাকে পড়ার জন্য চেয়ার টেবিল সরবরাহ করেছি। ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে সে স্কুলে বিনা বেতনে পড়তো এবং নিয়মিত উপবৃত্তি পেত।

জুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফজলে রাব্বানী চৌধুরী জানান, ছেলেটির সাথে দেখা হয়েছে। স্কুল থেকে তার অনলাইন আবেদন করার জন্য বলে দিয়েছি। যাতে নটরডেম কলেজসহ ভালো ভালো কলেজগুলোতে আবেদন করে। 
তিনি বলেন, মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দীন আহমেদ মিঠুও ছেলেটির সাথে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন রাহেলের পড়ালেখার খরচ চালানোর জন্য জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনে আবেদন করে সেখান থেকে একটা বৃত্তির ব্যবস্থা করে দিবেন।