নিজস্ব প্রতিবেদক::
শুক্রবার আখাইলকুড়া ইউনিয়নের পালপুর গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে।
জানা যায়, সদর উপজেলা কৃষক দলের সদস্য ও সুমারাই গ্রামের তোফায়েল মিয়া শুক্রবার দুপুরে জেলা শহর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা যোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফখরুজ্জামানের বাড়ির সামনে সিএনজি আসলে রাস্তা আটকিয়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ফখরুজ্জামান, তার ভাই সদর উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক শফিউল আলম জগলু ও ভাতিজাসহ ১০-১২ জন মিলে মধ্যযুগীয় কায়দায় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করেন। পরে সেখান থেকে তোফায়েলকে ধরে নিয়ে বাড়িতে যান তারা। বাড়িতে নিয়ে সেখানে আরেকদফা মারধর করা হয়। পরে বিকেলে মৌলভীবাজার মডেল থানা পুলিশ ফখরুজ্জামানের বাড়ি থেকে তোফায়েল মিয়াকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তোফায়েল মিয়া বলেন, আমার বাবার সাথে জমির মালিকানা নিয়ে পূর্ব থেকে ফখরুজ্জামানদের সাথে বিরোধ ছিল। এই বিরোধের জের ধরে তারা আমাকে বাড়িতে নিয়ে বদ্ধ একটি ঘরে পাইপ ও রড দিয়ে মারধর করে। আমাকে বস্তায় ভরে মেরে নদীতে ফেলে দিতে চেয়েছিল। আমাকে আমার লুঙ্গি পর্যন্ত পরতে দেয়নি।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ফখরুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গত বছর বিলে একটি ঝামেলা হয়েছিল। বিষয়টি জেলার নেতৃবৃন্দও অবগত। পরে সবাই মিলে একটি বিচার হয়েছিল। কিন্তু তারা সমাধান করেনি।
তিনি বলেন, গতকাল আমার বাড়ির কয়েকজন ছেলেরা তাকে ধরে বাড়িতে এনেছিল। এসময় আমি তখন নামাজে যাচ্ছিলাম। তখন বলেছি জুম্মার নামাজ পড়ে বিষয়টি দেখবো। পরে তার এলাকার মুরব্বিদের এনে তাকে নিয়ে যাবার জন্য বলি।
আরেক অভিযুক্ত সদর উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক শফিউল আলম জগলু বলেন, এলাকার কয়েকজন ছেলে তাকে ধরে এনে দিয়েছিল। কারা ধরে এনেছিল এইসব ছেলেদের নাম জিজ্ঞেস করলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলেন। পরে সরাসরি কথা বলবেন বলে কল কেটে দেন।
মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার এ এস আই ইউসুফ জানান, আমি তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে পরিবারের জিম্মায় দিয়েছি। সেখান থেকে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। থানায় অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
