শ্রীমঙ্গলে পরিকল্পিত হামলা: রক্তাক্ত অবস্থায় ছাত্রলীগ নেতা বদরুল, এলাকায় চরম উত্তেজনা

 


নিজস্ব প্রতিবেদক::

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় আবারও রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় আলোচনায় এসেছে। গভীর রাতে সংঘটিত এক নৃশংস হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা মো: বদরুল মিয়া। 

বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে কালাপুর বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বদরুল মিয়া দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। তবে অসুস্থ মাকে দেখতে তিনি গোপনে নিজ বাড়িতে ফেরেন। কিন্তু তার উপস্থিতির খবর কোনোভাবে ছড়িয়ে পড়লে প্রতিপক্ষের একটি সংঘবদ্ধ দল তাকে টার্গেট করে পরিকল্পিতভাবে হামলার ছক আঁকে।

অভিযোগ রয়েছে, হাফিজুর রহমান চৌধুরী তুহিন-এর নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি ওই রাতে কালাপুর বাজার এলাকায় অবস্থান নেয়। রাত প্রায় ১১টার দিকে বদরুল মিয়ার গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী গাড়ি থামিয়ে তাকে জোরপূর্বক নামিয়ে আনে। এরপর চারদিক থেকে তাকে ঘিরে ফেলে শুরু হয় বেধড়ক মারধর।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, হামলাকারীরা প্রথমেই ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করে। তবে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বদরুল মিয়া নিজের ডান হাত দিয়ে মাথা রক্ষা করতে গেলে তার আঙুলে গুরুতর আঘাত লাগে। এতে তার বৃদ্ধাঙ্গুলসহ একাধিক আঙুলে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়, যা পরে সেলাই করতে হয়। একই সঙ্গে বাম হাতেও আঘাতপ্রাপ্ত হন তিনি।

হামলার একপর্যায়ে জীবন বাঁচাতে তিনি দৌড়ানোর চেষ্টা করলে হামলাকারীদের একজন তার ডান পায়ের গোড়ালিতে আঘাত করে। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় জুবেল আহমেদসহ আরও কয়েকজন তাকে ঘিরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করতে থাকে।

স্থানীয়দের দাবি, পুরো ঘটনাটি কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটে গেলেও হামলার নৃশংসতা ছিল চরম। বদরুল মিয়ার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থার অবনতি লক্ষ্য করে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে, ঘটনার পর থেকেই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনাকে পূর্বপরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জের ধরেই এই হামলা সংগঠিত হয়েছে।

তবে অভিযুক্ত পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক সহিংসতার পুনরাবৃত্তি উদ্বেগজনক ইঙ্গিত বহন করে। তারা মনে করেন, এমন পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক স্থিতিশীলতা ও আইনশৃঙ্খলার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি রাজনৈতিক সহনশীলতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা। অন্যথায়, এ ধরনের সহিংসতা আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।