মৌলভীবাজারে নদী ভাঙনে পানিবন্দি মানুষ, অপ্রতুল ত্রাণ



নিজস্ব প্রতিবেদক::

অতি বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে মৌলভীবাজার জেলায় মনু নদী’র পানি বিপৎসীমার উপরে দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। জেলার সদর, রাজনগর, কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ উপজেলায় ১৭টি ইউনিয়নের মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। 

শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলায় ৭ হাজার ৩’শ ৮টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। জেলায় ১৩টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তবে অনেক মানুষ এখনও নদীর বাঁধে বসবাস করছেন। বন্যা কবলিতদের অভিযোগ ত্রাণ সামগ্রীও অপ্রতুল। রাজনগর উপজেলার কামারচাক ও টেংরা ইউনিয়নের বন্যাকবলিত মানুষ বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভোগছেন। দুর্ভোগে দিন পার করছেন বানবাসী মানুষ।

কমলগঞ্জ উপজেলায় ধলাই নদীতে ভাঙনের ফলে ৩টি ইউনিয়নের ৭/৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। রাজনগর উপজেলায় মনুনদীর বাঁধ ভাঙনে টেংরা, কামারচাক, মনসুরনগর ও পাঁচগাঁও, কুলাউড়া উপজেলার জয়চন্ডি, সদর, হাজিপুর ও শরীফপুর এবং সদর উপজেলার মনুমুখ, কামালপুর, আখাইলকুড়া, চাঁদনীঘাট, কনকপুর ও পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৭’শ ৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ৫০ মেট্টিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। 

এদিকে নদীর পানি কমলেও হাকালুকি, হাইল হাওর ও কাউয়াদীগি হাওরে পানি বাড়ছে। হাওর তীরবর্তী গ্রাম প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে মনু নদীর চাঁদনীঘাট অংশে বিপৎসীমার ০৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মনুনদীর রাজনগর উপজেলার উজিরপুর ও ধলাইনদীর কমলগঞ্জ উপজেলার মুকাবিল নামক স্থানে ভাঙ্গন দেখা দেয়। 

এদিকে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ, জেলা রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, জেলা বিএনপি, জেলা যুবদল, জামায়াত, সমাজসেবক ও বিভিন্ন ব্যক্তি উদ্যোগে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।