বড়লেখা প্রতিনিধি::
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন সময় প্রবাসে থেকেও মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার নিজ বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আলভী হোসেন হানিফকে অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলার আসামী করার অভিযোগ উঠেছে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আবু হাসান বাদী হয়ে ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ইং তারিখে ৪৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৭০/৮০ জনকে আসামী করে বড়লেখা থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। এই মামলায় ৩৮ নং আসামী করা হয় নিজ বাহাদুরপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আলভী হোসেন হানিফকে। আলভী নিজ বাহাদুরপুর গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে।
জানা যায়, ২৪ শের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আলভী হোসেন হানিফ প্রবাসে ছিলেন। তিনি ২০২৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর প্রবাসে যান।
মামলা সূত্রে জানা যায়, তৎকালীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী সৈরাচারী শেখ হাসিনা কোটা আন্দোলনকে অন্যভাবে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে নীরিহ ছাত্রদের গুলিবর্ষণ করে পাখির মত হত্যা করে। সেই ধারাবাহিকতায় আওয়ামীলীগ সরকারকে উৎখাত করার জন্য এবং পদত্যাগ করার জন্য বিভিন্ন থানা ও উপজেলায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ন্যায় সমাজে প্রতিবাদ ও আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য মামলার বাদী সমন্বয়ক হিসাবে বড়লেখা উপজেলায় ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তুলেন। মামলায় উল্লেখিত আসামীরা ও অজ্ঞাতনামা আসামীরা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে নস্যাৎ করার লক্ষ্যে বাদীকে প্রাণ নাশের হুমকী দেয়। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই, ০৪ এবং ০৫ আগস্ট বিভিন্ন সময় আসামীরা বেআইনী জনতায় একদল বন্ধভাবে রামদা, চাপাতি, কিরিচ, হকিস্টিক অবৈধ পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্র সন্ত্র নিয়া বড়লেখা বাজারে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের উপর হামলা করে এলোপাতাড়ি পিঠাইয়া মারাত্বক জখম করে।
আলভী হোসেন হানিফের মাতা জাসমিন বেগম জানান, আমার ছেলে দেশে থাকাকালীন সময় ছাত্রলীগ রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল ঠিক। কিন্তু বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সে প্রবাসে ছিল। আমার ছেলেকে মিথ্যা উদ্দেশ্যমূলক ভাবে আসামী করা হয়েছে।বর্তমানে আমি আমার মেয়েদের নিয়ে বিয়ানীবাজার একটি ভাড়া বাসায় থাকি। প্রতিবেশীদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি এই মামলার ফলে প্রায়ই আমার ছেলেকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ আমার বাড়িতে অভিযান চালায়।
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঞ্জয় চক্রবর্তী জানান, এই মামলার আসামী আলভী হোসেন হানিফের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা হয়েছে।
