মৌলভীবাজার ও কুলাউড়া প্রতিনিধি::
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশকে বাঁচাতে হলে আগামী মাসের ১২ তারিখের নির্বাচনে আমাদের বিজয়ী হতে হবে। বহু মানুষ গণতন্ত্রের জন্য রক্ত দিয়েছে, গুম-খুনের শিকার হয়েছে। সেই ত্যাগের মর্যাদা দিতে হলে কোথায় সিল মারতে হবে? ধানের শীষেই সিল মারতে হবে।
দেশ পুনর্গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনতে হবে, মানুষের কথা বলার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। একমাত্র ধানের শীষই সেই নিশ্চয়তা দিতে পারে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বিএনপির চেয়ারম্যান দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দলের অঙ্গীকার পূণর্ব্যক্ত করে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে। যাতে এই মানুষগুলো নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। শুধু কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই না পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল করে গড়ে তুলতে চাই। যেন আপনারা মধ্যপ্রাচ্য, লন্ডন বা পৃথিবীর অন্য কোথাও যান যাতে ঐ দেশে গিয়ে আপনারা দ্রæত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেন।
নারীদের উন্নয়নে বিএনপি কাজ করতে চায় জানিয়ে তিনি বলেন, নারীদের ফ্যামেলি কার্ড দেওয়া হবে। পরিবারের মায়েদেরকে এই কার্ড দেওয়া হবে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে তাদেরকে খাদ্য সহায়তা বা নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে। তাদের সংসার সুন্দরভাবে চালাতে পারে।
তিনি বলেন, আমরা ঘরে ঘরে ফ্যামেলি কার্ড দেব। কৃষকদের উন্নয়নে আমরা কৃষি কার্ড প্রদান করব। এই কার্ডের মাধ্যমে তাদেরকে ঋণ, সার, বীজ ও বিমা সহায়তা দেব। যাতে তাদের বিপদের সময় ঘুরে দাড়াতে পারে। এছাড়াও তিনি তার বক্তব্যে বলেন, মসজিদের খতিব ইমাম মুয়াজ্জিনদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সম্মানির ব্যবস্থা করা হবে। যাতে মসজিদের খতিব ইমাম মুয়াজ্জিনরা সম্মানের সাথে এ সমাজে বসবাস করতে পারেন।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে মৌলভীবাজারের শেরপুরের আইনপুর মাঠে জেলা বিএনপির আহবায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ূনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপনের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিকে গৌউছ, মিফতাহ উদ্দিন সিদ্দিকি।
তারেক রহমান কোনো দলের নাম উল্লেখ না করেই বলেন, একটি বিশেষ দলের জন্য বিএনপির চেয়ে তিন গুণ বেশি প্রটোকল দেওয়া উচিত। এতে জনসাধারণ বিভ্রান্ত হওয়া থেকে বিরত থাকবে এবং অযাচিত পরিস্থিতিও এড়ানো সম্ভব। অন্তর্র্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রতি এই আহবান জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, মানুষ এখন বুঝতে পারছে কারা বিভ্রান্ত করছে। এতে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। আমরা চাই না সেই ক্ষোভ থেকে কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটুক। তাই অনুরোধ থাকবে- যাদের প্রয়োজন, তাদের প্রটোকল বিএনপির তুলনায় তিনগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হোক।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার জেলার ৪টি আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও মৌলভীবাজার-৩ আসনের এম নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ আসনের হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী, মৌলভীবাজার-২ আসনের শওকতুল ইসলাম শকু এবং মৌলভীবাজার-১ আসনের নাসির উদ্দিন মিঠু।
তারেক রহমান আরও বলেন, একসময় দেশে নির্বাচনের নামে তামাশা হয়েছে। একবার আমি ডামির নির্বাচন, আরেকবার নিশী রাতের নির্বাচন এবং ভোট চুরির নির্বাচন হয়েছে। একটি পর একটি তথাকথিত নির্বাচন হয়েছে। জনগণকে ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। যেই দলটি পালিয়ে গেছে এরা গত ১৫ বছর মানুষের ভোটের অধিকার দেয়নি। কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। তাদের অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করলে হয় তাকে গুম করতো নাহয় তাকে মিথ্যা মামলা দিত।
তিনি বলেন, এই দলটি শুধু ভোটের অধিকার নয় তারা দেশ থেকে টাকা পয়সা সব লুটপাট করে বিদেশে পাচার করে দিয়েছে। ভোটের অধিকার না থাকায় এলাকার সমস্যার কথা বলার মানুষ ছিল না। তখন সংসদে গান, প্রশংসা হত। বহুবার দেশে ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল কি তা বুমেরাং হয়েছে।
জনসভায় জেলার ৭টি উপজেলা থেকে বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন। দুপুর গড়াতেই শেরপুরের আইনপুর মাঠে লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে।
সকাল থেকে সমাবেশস্থলে মানুষের উপস্থিতি শুরু হয়। দুপুর গড়ানোর আগেই খÐ খÐ মিছিল নিয়ে উপস্থিত হতে থাকেন নেতাকর্মীরা। মৌলভীবাজার সদর, রাজনগর, কুলাউড়া, জুড়ী, বড়লেখা, কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা থেকে দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন।
দীর্ঘদিন পর জনসভায় তারেক রহমানের উপস্থিতি নেতাকর্মীদের মধ্যে বিপুল উৎসাহের সঞ্চার করে। এই জনসভায় তারেক রহমান জেলার চারটি আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। এর আগে ২০০৫ সালে মৌলভীবাজারে প্রথম আসেন তারেক রহমান। সর্বশেষ ২০১৮ সালে শেরপুরের পথসভা ও ২০০৪ সালে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠের জনসভার পর এটাই দলীয়প্রধানের প্রথম কোনো জনসভা।
