নিজস্ব প্রতিবেদক::
অতি বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে মৌলভীবাজার জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থের তালিকায় রয়েছে পাকা ও আধাপাকা রাস্তা, ব্রীজ, কালভার্ট, ঘরবাড়ি, কৃষিক্ষেত সহ বিভিন্ন স্থাপনা। এলজিইডির প্রাথমিক হিসাবে শুধু রাস্তা, ব্রীজ ও কালভার্টে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাড়িয়েছে ২৮ কোটি ৫৪ লক্ষ টাকা।
জেলার ৫টি উপজেলার ৩১টি ইউনিয়ন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়। বিশেষ করে রাজনগর উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হয়। সরকারি হিসাবে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের সংখ্যা ২৬ হাজার ছাড়িয়েছে। তবে স্থানীয় হিসাবে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের সংখ্যা অর্ধ লক্ষাধিকের উপরে।
মৌলভীবাজার এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, বন্যায় এলজিইডির ৩৩টি রাস্তার ৯৬ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২৭ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। এছাড়া ৪টি ব্রীজ ও কালর্ভাট ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১ কোটি ৪ লক্ষ টাকা। সবমিলিয়ে এলজিইডির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাড়িয়েছে ২৮ কোটি ৫৪ লক্ষ টাকা।
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ আব্দুল্লাহ জানান, প্রাথমিকভাবে আমরা বন্যা দূর্গত এলাকা থেকে এই তথ্য সংগ্রহ করেছি। পানি পুরোপুরি কমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। তখন সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস জানায়, বন্যায় জেলাজুড়ে ৩৬৬৭টি ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। কাঁচা ও আধাপাকা ৮৭.৪৫ কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এছাড়া ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সোমবার পর্যন্ত ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১০২৪ জন মানুষ অবস্থান করছেন।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া জানান, বন্যার পানি কমলেও ঘর-বাড়িতে লোকজন যেতে পারছে না। অনেকেই প্রতিরক্ষা বাঁধে অবস্থান করছেন। মানুষজন বাড়ি ঘরে যেতে আরও সপ্তাহ খানেক সময় লাগবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস জানিয়েছে, বন্যায় আউস ধান আক্রান্ত হয়েছে ২৪৮ হেক্টর, আমনের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৮৬.৫০ হেক্টর ও সবজি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৬৪.৫০ হেক্টর।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো: জালাল উদ্দিন জানান, বন্যার পানি বেশি সময় থাকেনি। যার জন্য ক্ষয়ক্ষতি কম হয়েছে। এছাড়া পানি নেমে যাওয়ায় ফসল খুব একটা নষ্ট হয়নি।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে জেলার মনু, ধলাই, কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে অনেক মানুষ এখনও নদীর বাঁধে বসবাস করছেন। বন্যার পানি কমলেও ঘর-বাড়ি এখনও শুকায়নি। মানুষ তাদের পরিবার ও গবাধিপশু নিয়ে বাঁধে জীবনযাপন করছেন। ঘরবাড়ি শুকাতে আরও সপ্তাহ খানেক সময় লাগতে পারে। এখন অনেক মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
এদিকে নদীর পানি কমলেও হাকালুকি, হাইল হাওর ও কাউয়াদীঘি হাওরে পানি বাড়ছে। হাওর তীরবর্তী গ্রাম প্লাবিত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলিদ জানান, মনু ও ধলাই নদীর ভাঙন স্থলে পানি কমেছে। এ সপ্তাহেই বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করবেন তারা।
.jpeg)