নদীতে পানি কমলেও দূর্ভোগ কমেনি বন্যা দূর্গতদের



নিজস্ব প্রতিবেদক::

অতি বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে মৌলভীবাজার জেলার বন্যাদূর্গত মানুষের দূর্ভোগ কমেনি। বন্যার কারণে জেলার ৫টি উপজেলার মানুষ দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন। নদী ভাঙনে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে রাজনগর উপজেলা। এই উপজেলায় মনু নদীর দুইটি স্থানে ভাঙনের ফলে ৫টি ইউনিয়নের মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। এছাড়া বন্যায় ¯্রােতের টানে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে জেলার মনু, ধলাই, কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সদর, রাজনগর, কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল ও কুলাউড়া উপজেলার ৩১টি ইউনিয়ন। সরকারি হিসাবে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের সংখ্যা ২৬ হাজার ছাড়িয়েছে। তবে স্থানীয় হিসাবে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের সংখ্যা অর্ধ লক্ষাধিকের উপরে। জেলায় ২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের সহায়তায় জি আর চাল ১১০ মেট্টিক টন, জি আর নগদ ৫লক্ষ টাকা ও ১৭৫০ বস্তা শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

এদিকে অনেক মানুষ এখনও নদীর বাঁধে বসবাস করছেন। বন্যা কবলিতদের অভিযোগ ত্রাণ সামগ্রীও অপ্রতুল। রাজনগরের কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভোগছেন। দুর্ভোগে দিন পার করছেন বানবাসী এসব মানুষ।

এদিকে নদীর পানি কমলেও হাকালুকি, হাইল হাওর ও কাউয়াদীগি হাওরে পানি বাড়ছে। হাওর তীরবর্তী গ্রাম প্লাবিত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলিদ জানান, মনু ও ধলাই নদীর ভাঙন স্থলে পানি কমেছে। আশাকরি এ সপ্তাহেই আমরা বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারবো।

বন্যায় দূর্গত মানুষের মাঝে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ, জেলা রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, জেলা বিএনপি, জেলা যুবদল, জেলা জামায়াত, সমাজসেবক ও বিভিন্ন ব্যক্তি উদ্যোগে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।